
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর সাত বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার একটি গ্রামের পুকুরপাড়ের ঝোপ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। শিশুটির মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে শিশুটি একই গ্রামে তার মামার বাড়িতে যায়। সকাল পৌনে ১০টার দিকে সেখান থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়। কিছুক্ষণ পর তার মা মেয়ের খোঁজে মামার বাড়িতে গিয়ে জানতে পারেন, সে আগেই বাড়ির উদ্দেশে বের হয়েছে। কিন্তু শিশুটি নিজ বাড়িতেও পৌঁছায়নি।
এরপর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এলাকায় মাইকিং ও মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শিশুটির সন্ধান চেয়ে পোস্ট করা হয়। কোথাও খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে নবীনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
দুই দিন ধরে খোঁজাখুঁজির পর সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মামার বাড়ি থেকে অল্প দূরে একটি পুকুরপাড়ের ঝোপে মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। দীর্ঘ সময় পড়ে থাকায় মরদেহে পচন ধরেছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পরিবারের দাবি, এটি হত্যাকাণ্ড
শিশুটির মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোক। শিশুটির মামার ভাষ্য, পরিবারের সঙ্গে কারও পরিচিত শত্রুতা ছিল না। কীভাবে শিশুটি সেখানে গেল এবং তার মৃত্যু কীভাবে হলো, সেটিই এখন পরিবারের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
শিশুটির বাবা ঢাকায় একটি বেকারিতে কর্মরত। তিনি মেয়ের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তবে পরিবারের এই সন্দেহ এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে মৃত্যুর কারণ
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
শিশুটির মৃত্যু দুর্ঘটনা, হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে।
সাত বছরের একটি শিশু বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হওয়ার পর মাত্র দুই দিন পর কাছাকাছি একটি পুকুরপাড়ের ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কীভাবে শিশুটির মৃত্যু হলো এবং নিখোঁজ হওয়ার পর এই দুই দিনে কী ঘটেছিল, এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।